Educationভর্তি ও পরীক্ষা

ডাউনলোড মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার সবগুলো বই

মেডিকেল ভর্তি গাইড PDF Download. বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধে উত্তীর্ণ হওয়ার প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সবাই শুরু করে দিয়েছে। মেডিকেলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থিরা যাদের মধ্যে অন্যতম। আজ কোর্সটিকায় আমরা মেডিকেল ভর্তি গাইড PDF Download এর সবগুলো ফাইল শেয়ার করবো। যেখানে আপনি সাজেশান্সের পাশাপাশি প্রতিটি বই ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার চিন্তা তো শেষ। কিন্তু এই চিন্তা শেষ হওয়ার সাথে সাথে এখন শুরু হবে সবথেকে বড় চিন্তা। আর তা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চিন্তা। বাংলাদেশের শীর্ষ মেধাবীরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য বছরের এসময়টি লড়াই করে। মেডিকেলে যারা ভর্তি হতে চায়, তারাও এর ‌ব্যাতিক্রম নয়।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সাজেশান্স বা দিকনির্দেশনা নিয়ে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিঃসন্দেহে একটি জটিল পরীক্ষা। কারণ এই পরীক্ষার মধ্য দিয়েই নতুন শিক্ষাজীবনের সূচনা করে আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ চিকিৎসকেরা।

মেডিক্যাল ভর্তি প্রস্তুতির জন্য অনেকে অনেক বইয়ের সাজেশান্স হিসেবে দিয়ে থাকে। কিন্তু কোর্সটিকায় আজ আমরা বিপুল সমারোহের সাজেশান্স নিয়ে আসিনি। আমরা মনে করি, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণ প্রস্তুতির জন্য টেক্সট বই যথেষ্ট।

বর্তমানে বাজারে প্রচলিত অনেক গাইড বই রয়েছে যারা প্রায়ই দাবি করে যে তাদের বই পড়লে নিশ্চিত চান্স কিংবা ১০০% প্রশ্ন কমন। তারা এও দাবী করে যে বাজারে বিক্রি হওয়া সবগুলো বইয়ের মধ্যে তারাই সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ। পাশাপাশি বইয়ের প্রচ্ছদে তাদের বই পড়ে চান্স পাওয়া কিছু ছেলেমেয়ের ছবিও জুড়ে দেয় প্রমাণস্বরূপ। বাস্তবে এগুলো কেবল “ভাওতাবাজি” আর বাজারে বইয়ের কাটতি বাড়ানোর ধান্দা ছাড়া আর কিছুই না।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের কিছু কথা সত্য হয়। কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে, ভর্তি গাইডের প্রশ্নগুলো তো টেক্সট বই থেকেই তৈরি। আর তাই যদি হয়, তাহলে টেক্সট বই ছেড়ে একজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী কেন গাইড বই পড়বে? তবে এখানে গাইড বই পড়া ক্ষেত্রে একটা যুক্তি হচ্ছে, একটি গাইড বইয়ে প্রশ্ন ও সাজেশান্সগুলো যেভাবে শ্রেণীবিন্যাস ও সাজানো গোছানো থাকে, একটি টেক্সট বইতে সেভাবে থাকে না।

কিন্তু আশার কথা হচ্ছে একজন ছাত্র উচ্চ মাধ্যমিকের দুই বছর যে পড়াশোনা করে, তাতে যেকোন ছাত্রের টেক্সট বইয়ের ৬০-৭০% পড়া কমপ্লিট হয়ে যায়। তাহলে, ভর্তি পরীক্ষার সময় যদি একটু পড়াশোনা করে তবে কি বাকী ৩০% কমপ্লিট হবে না? অবশ্যই হবে।

ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীরা কে কোথায় ভর্তি হতে ইচ্ছুক সেই অনুযায়ী পড়া শুরু করে দিয়েছে। আমরা সেই অনুযায়ী আমাদের এই সাজেসান্সের তালিকাটি সাজিয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছি হাবিজাবি বইয়ের ভিড়ে সবথেকে পারফেক্ট বইগুলো খুঁজে বের করতে। পাশাপাশি মেডিকেল ভর্তি গাইড pdf download এর লিংক সংযুক্ত করে দিয়েছি। তাহলে চলুন, সাজেশান্সটি দেখে নেই এক নজরে।

১. জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র – আবুল হাসান

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতির বিশেষ করে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য আবুল হাসান ও গাজী আজমল স্যারের বই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বই গুলোর সকল পাতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেই সকল শিক্ষার্থী যার পড়াশুনা তুলনামূলক দুর্বল ও স্মরণশক্তি কম, তাদের জন্য এই বইটি দারুণভাবে উপযোগি।

বইটিতে রঙিন কালী দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো দাগ দেয়া হয়েছে। কারণ, কোচিং এর ভাইয়েরা এভাইবেই বই দাগিয়ে পড়ায় যেভাবে পিডিএফ এ দেওয়া আছে। এতে পরবর্তীতে মেডিকেল বা বিশ্ববিদ্যালয় কোচিং এ ভর্তি হলে তোমার কাছে অনেক সহজ লাগবে সবকিছু।

২. জীব বিজ্ঞান ২য় পত্র – গাজী আজমল

গাজী আজমল স্যারের চমৎকার একটি বই হচ্ছে জীব বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র। বই টি খুললেই আপনারা দেখতে পাবেন প্রথম পৃষ্ঠার নিচে একটা জলজ্যান্ত রয়েল বেগুগল টাইগার মুখ হা করে “গাজী পাবলিশার্স” লিখাটির দিকে রাগী রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। পারলে এখনি খেয়ে ফেলবে ফেলবে, কিন্ত খাচ্ছে না। কেন সেটা বুঝবেন না।

এই যে, থ্রিলিং কিন্তু শুরু হয়ে গেছে। এবার পাতা উল্টাতে উল্টাতে বারংবার আপনি শিহরিত হবেন। প্রথমেই দেখতে পাবেন পুরো বইয়ের ভয়ানকরূপী এক সূচীপত্র আপনার দিকে জলজল চোখে তাকিয়ে আছে। সূচীপত্রকে ইগ্লোর করে আপনি বইয়ের ভিতরে প্রবেশ করুন। বইএর শুরুতেই আপনি পাবেন প্রাণীবৈচিত্র্য নামক অংশ।

জীব বিজ্ঞানের দারুণ সব উপস্থাপনা নিয়ে সাজিয়ে গুছিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই বইটি। যার ফলে এই বইটি অধ্যয়ন করলে আপনাকে আর অন্য কোন বইয়ের সাহায্য নিতে হবে না। মেডিকলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা বিনাদ্বিধায় এই বইটি থেকে প্রস্তুতি শুরু করতে পারেন।

৩. রসায়ন বিজ্ঞান – সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী

বাংলাদেশে উচ্চ মাধ্যমিক লেভেলে যারা লেখাপড়া করছে তাদের ক্ষেত্রে রসায়ন প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় পত্রের জন্য সবচেয়ে ভালো বই ধরা হয় হাজারী ও হারাধন নাগ স্যারের বইকে। এই বই এ যেমন মূল টপিকগুলো খুব সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই তাদের পড়ার অংশগুলো বুঝতে পারে৷

মেডিকেলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য এটি হতে পারে দারুণ একটি পছন্দ। কারণ, বই দুটি অনেক সহজবোধ্য ভাষায় লেখা হয়েছে। যেন অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছাত্র ছাত্রীরাও খুব সহজে কঠিন কঠিন বিষয়গুলোকে আয়ত্ব করতে পারে তাই এটি মেডিকেল ভর্তি প্রস্তুতি নেয়ার জন্য উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন এর উপযোগি একটি অতিব গুরুত্বপূর্ণ বই।

উল্লেখ্য: এখানে রসায়ন বিজ্ঞান বই বলতে প্রথম পত্র এবং দ্বিতীয় পত্র উভয়কেই সাজেস্ট করা হয়েছে।

৪. পদার্থ বিজ্ঞান – শাহজান তপন

শাহজান তপন স্যারের পদার্থ বিজ্ঞান বইটি জাতীয় শিক্ষা ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নতুন নীতিমালা অনুসারের প্রণীত। বাংলাদেশের সকল শিক্ষা বোর্ডের প্রতি বিশেষ নজর রেখে এই বইয়ের বিভিন্ন অনুচ্ছেদকে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। যাতে করে শিক্ষার্থীরা নিজে নিজেই অনায়াসে সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে পারে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বিষয়বস্তু সহজে অনুধাবনের মাধ্যমে পরীক্ষায় উচ্চ নম্বর অর্জনে সক্ষম হবে।

৫. Competitive Exam

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবে আর ইংরেজী পড়বে না, তা তো নয়। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সব থেকে কঠিন প্রশ্ন হয়েই থাকে ইংরেজী বিষয়টি থেকে। তাই এ বিষয়ে জোড়ালো প্রিপারেশন নেয়া উচিত। শুধু মেডিকেলে ভর্তি হতে চাওয়া শিক্ষার্থীরাই না, বরং বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু সকল শিক্ষার্থীদেরই ইংরেজীতে জোড়ালো প্রস্তুতি নেয়া দরকার।

আর এজন্য বিস্তর প্রিপারেশন নিতে তোমাকে এই বইটি সাহায্য করবে। ইংরেজির জন্য এই বইটি সবচেয়ে ভালো। এই বইটি ভালোভাবে মুখস্ত করতে পারলেই যথেষ্ট। এখানে বিভিন্ন চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত বছরের প্রশ্ন দেওয়া আছে। সব পরীক্ষাতেই এখান থেকে হুবুহ কয়েকটা প্রশ্ন আসবেই।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও বিসিএস প্রস্ততির জন্য English For Competitive Exam বইটি খুবই জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ । অন্যান্য সকল বইয়ের মত এই বইয়েরও PDF ভার্সনটি অনলাইনে তেমনভাবে পাওয়া যায় না। তবে বইটি কোর্সটিকায় সহজলভ্য। এই লিংক থেকে বইটি ডাউনলোড করে নিতে পারো।

৬. Cliff’s TOEFL

এই বইটি অনেকটা Baron’s TOEFL এর মতই। এই বইতে গ্রামারের সকল নিয়মের পাশাপাশি কিছু মডেল টেস্ট দেওয়া আছে। যেগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। Barrons Toefl এবং Cliffs Toefl বই দুইটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বই । বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজীতে ভালো করার জন্য এই বইয়ে বিকল্প নেই।

Barrons Toefl এবং Cliffs Toefl বই দুইটি একই প্রকৃতির হলেও কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। Cliffs Toefl বইটিতে গ্রামারের রুলসের পাশাপাশি কিছু Seen Comprehension এর মডেল টেস্ট দেওয়া আছে। যেগুলো কিনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই খুব মনযোগ ও সময় নিয়ে বইটি পড়ার চেষ্টা করবে । বইটি ডাউনলোড করে নাও এখান থেকে।

৭. MP3 বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী

সাধারণ জ্ঞানের জন্য বাজারে যত বই পাওয়া যায়, তার মধ্যে MP3 হবে তোমার জন্য বেস্ট চয়েজ। কারণ, এই বইয়ে বিষয়ভিত্তিকভাবে সবকিছু সাজানো আছে। পাশাপাশি বিগত বছরের প্রশ্ন তো থাকছেই। সবচেয়ে বড় কথা হল, কোন একটি বিষয় পড়ার পড় তুমি নিজেই নিজেকে যাচাই করতে পারবে। আর এই দুইটি বই ভালভাবে শেষ করে প্রতি মাসের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বই থেকে সাম্প্রতিক বিষয়গুলো জেনে নিতে পার।

৮. বিগত বছরের প্রশ্ন

বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেলে ভর্তির ক্ষেত্রে বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধানের বিকল্প নেই। বিগত বছরগুলোতে কি প্রশ্ন এসেছিলো, কোন কোন জায়গা থেকে এসেছিল, এগুলো পূর্ণাঙ্গরূপে বিশ্লেষণ করা জরুরী। কারণ, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েরই নিজস্ব প্রশ্ন কাঠামো রয়েছে ।

একটি মেডিকেলের প্রশ্নের প্যাটার্নের সাথে অন্য মেডিকেলের তেমন একটা মিল নেই । তাই তুমি যে মেডিকেলকে টার্গেট করবে, সেসব মেডিকেলের বিগত বছরের প্রশ্নগুলো ফলো করবে । এতে করে প্রশ্নের প্যাটার্ন ও মানবন্টন সম্পর্কে ভাল ধারণা পাবে । তবে যদি সম্ভব হয়, দি মেডিসিন প্রশ্নব্যাংক টি পড়বে। বাজারের অন্যান্য প্রশ্নব্যাংক থেকে দি মেডিসিন প্রশ্নব্যাংকটি যথেষ্ট নির্ভুল এবং ব্যাখ্যাসমৃদ্ধ।

ফাইলগুলো ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

সবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রচুর প্রস্তুতির বিকল্প নেই। তুমি যেখান থেকে যে বই পড়ো না কেন, তোমাকে খুব ভালো মানের প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিযোগিতা করে থাকে দেশের সব মেধাবী ছাত্ররা। যেখানে তোমাকেও প্রতিযোগিতা করতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button